Nov.06

No need SocialMedia !

দুইটা মেয়ের ফেসবুকে পরিচয়। চ্যাট ফ্যাট, লাইক, রিএক্ট, কমেন্ট। দুইদিন পর দেখা হল। পাউট ফেসের সেলফি তুলে ক্যাপশন দিল, with my bestie :3

ফেসবুকে দুদিনের আলাপ। গুটিকয়েক লাভ রিএক্ট। তারপরই প্রেম। ফেসবুকে ছবি দিয়ে ক্যাপশন, meet my babe :3

৬/৭ বছর ধরে চুটায়ে প্রেম করতেছে। অথচ ফেসবুকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস এখনো “single”…

ক্যাম্পাসে একসাথে বসাবসি- ঘেঁষাঘেঁষি। একসাথে সিনেমা- রিকশা- খাওয়া দাওয়া। ফেসবুকে একজন অন্যজনকে bae বইলা ডাকাডাকি।
কেউ একজন মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করল, তোর বয়ফ্রেন্ডের কি অবস্থা?
আসমান থেকে পড়ে যাওয়ার ভাব দেখায়া মেয়েটা বলল, বয়ফ্রেন্ড (!)… উই আর “জাস্টফ্রেন্ড”।

সোশাল মিডিয়ায় খুব বেশি একটিভ হয়ে আমাদের সম্পর্কের মিনিংগুলো বদলে যাচ্ছে। অতিরিক্ত শোফ অফ কিংবা অতিরিক্ত চেপে রাখার আড়ালে সত্যিকারের সম্পর্কগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

বন্ধুত্বের মানে হয়ে যাচ্ছে,
“মেনশন করুন আপনার সেই বন্ধুকে”… tag your best friend… tag your that friend… tag your ****…

পাউট ফেস, ফুড মোড, বিউটি ক্যাম, ইউ ক্যাম পারফেক্ট, স্ন্যাপচ্যাট ফিল্টার এসবের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে এক উপন্যাস শেয়ার করে পড়া… ছাদে বসে একটা পুরো বিকেল চা খেতে খেতে গল্প করে কাটানো।

ভালোবাসা মানে হয়ে যাচ্ছে ফুড ব্যাংক/ ফুড ব্লগারের পছন্দের খাবারের পোস্টে মেনশন করে বলা, “কবে নিয়ে যাবা?”…

… বিদেশি ট্রল পেজ… ইউটিউবের লাইফস্টাইল ভিডিও… প্রাংক… ট্রল… সার্কাজম… হাইপ… ক্রেজ… ক্রাশ…
আমরা কেমন বদলে যাচ্ছি। সময় বদলে যাচ্ছে। অতিরিক্ত অনুভূতি, সিম্প্যাথি, ভালোবাসা কতকিছু আমরা দেখাই।
অথচ ডাটা কানেকশন বন্ধ করলেই সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীটা তখন একা, কেউ নেউ- কেউ নেই ভাব।

যাদের সাথে একসাথে বিকেল কাটানোর কথা ছিল, সন্ধ্যার আড্ডায় ধোঁয়া উঠানোর কথা ছিল তাদের সাথে এখন সন্ধ্যা রাত থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত কিছু লাইক- কমেন্ট- রিএক্ট দেয়া- নেয়া হয়। তারপরের বাকি রাতটা কিন্তু পুরোপুরি একা।

রাত দুইটা তিনটার পর মনে হয়,
আমাদের কি এতকিছুর সত্যিই দরকার ছিল?

Life Story

Jun.28

একজন মানুষের না; এই গ্রহের সব মানুষের গল্প

একটা সত্যিকার সাংঘাতিক গল্প।
মানুষটির বয়স যখন ছয় কী সাত; তখন তাকে ছাদের একটি ঘরে আঁটকে রাখা হয়। কিছু বই দিয়ে বলা হল, তুমি এখন বন্দী। বই পড়। হাইস্কুলে যেদিন উঠবে সেদিন এই ঘরের চাবি খুলে দেয়া হবে।

ছেলেটি পড়া শুরু করল। খাটের উপরে বসে পড়তে শুরু করল স্বর বর্ণ – ব্যঞ্জন বর্ণ… হাইস্কুলে উঠলেই ছাদের দরজা খুলে যাবে। দরজা খোলা জরুরী। বড়দের মত যখন ইচ্ছে একা একা সাহাব স্টোরে যাবার জন্য হলেও জরুরী।

হাইস্কুলে উঠার পর সত্যি সত্যি ছাদের দরজা খুলে দিল। সিলিং ছাদের বদলে নীল নীল এগুলো কী? আকাশ! কী সর্বনাশ! আকাশের বুকে আবার নীল নীল বাতি কেন! ডিম লাইট নাকি? নক্ষত্র!

ছেলেটি ছাদ থেকে নিচে তাকিয়ে দেখে কত মানুষ রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছে! পৃথিবীতে এত মানুষ! এদের সবার বাবা মা আছে! পরিবার আছে! প্রত্যেকের একটি করে ঠিকানা আছে! কী চমৎকার নকশা!

ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দেখে সিঁড়ী ঘরে একটি কলাপ্সিবল গেট লাগানো। গেট ধরে ঝাকি দিতেই একজন এসে কিছু বই দিয়ে গেল!
‘ গেট খুলে দিন। আমি রাস্তায় যাব’
‘যেতে চাইলেই তো যাওয়া যায় না। তোমার আরো কিছু দায়িত্ব আছে। এই বই গুলো পড়। অংক আছে। জ্যামিতি আছে। ম্যাট্রিক পাশ করতে হবে। কলেজে উঠে গেলেই একেবারে স্বাধীন তুমি; এই গেট খুলে যাবে’।

চার পা ওয়ালা টেবিলের উপর বসে পড়া শুরু করল- চৌবাচ্চর পাটিগণিত। কলেজে উঠা মানেই চিকন চিকন নতুন গোঁফের রেখা। একেবারে বড়দের মত যখন ইচ্ছে আনামস প্লাজায় চলে যাওয়া। ভাবতেই গা শিওরে উঠে… কবে বড় হবে সে! বড় হওয়া জরুরী; ছোট হওয়া থেকে মুক্তির জন্য হলেও জরুরী।

সদ্য গজানো গোঁফের রেখা নিয়ে নতুন নতুন প্রেমে পড়ার জগত! কী আশ্চর্য অনুভূতি! কাউকে পেয়ে অথবা না পেয়ে এত আনন্দ হয় কেন!

ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে রেকর্ড প্লেয়ারে অঞ্জনদা ছেড়ে দিলেই মরে যেতে ইচ্ছে করে! কি আশ্চর্য! মরে যেতে এত ভাল লাগে কেন!
কলাপ্সিবল গেট খুলে দেয়া হল। সিঁড়ি দিয়ে চাইলেই নেমে আসা যায়। সন্ধার সাথে সাথে বাসায় ফিরতে হবে বলে তাড়া থাকে না। বড়দের মত দু একবার সিগারেট খাবার পরেও তাকা বুঝিয়ে দেয়া হল তুমি এখনো বড় হও নি।
‘ কেন?’
‘ তোমাকে আরেকটু পড়ালেখা করতে হবে। এটাই শেষ। এর পর তুমি সম্পূর্ণ স্বাধীন’
‘ তখন আমি যা ইচ্ছে করতে পারব?’
‘ হুম পারবে’
‘দূরে গিয়ে নিজের মত করে স্বপ্ন বানাতে পারব?’
‘ পারবে…’

চার পা ওয়ালা টেবিলের উপর বসে পড়া শুরু করল- বিশ্ববিদ্যালয়ের বই। প্রতি বছর বছর ক্যালেন্ডারে কত কিছু হারিয়ে যায় … বেটম্যানের স্টিকার , আলিফ লায়লা, এক টাকার দশটা মার্বেল … কাঠপেন্সিল ছেড়ে গেল; বলপয়েন্ট এল।
আর কিছুদিন পরেই দেশের সর্বচ্চ ডিগ্রীর সার্টিফিকেট ফ্রেমে করে দেয়ালে বাঁধানো যাবে। এরপর পুরোপুরি স্বাধীন।

রাত করে বাড়ি ফিরলেও কেউ কিছু বলবে না। কাউকে পছন্দ হলে তাকে বিয়ে করার ব্যাপারটা মাথায় রাখা যাবে; এই বয়সে চাইলেই বিয়ে করা যায়!
ইচ্ছে করলেই কলেজ লাইফের রুমাকে নিজের কাছে নিয়ে আসা যাবে। সে একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খাবে! এঘরে ওঘরে হেঁটে বেড়াবে! কি আশ্চর্য !

বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করার পর সে সত্যি সত্যি বিয়ে করে ফেলল। শোবার ঘরে দুটি ছবি ফ্রেমে করা বাঁধানো। একটি তার বিবাহের অন্যটি সর্বচ্চ ডিগ্রী ওয়ালা ছবি।
সেই বন্ধ ছাদ ঘর। বন্ধ কলাপ্সিবল গেট… সব খুলে গেল। আজ সে বের হবে। সে আজ মুক্ত! সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার পর বাসার মেইন গেটের কাছে এসে দেখে তালা ঝুলছে !!!

আর তো পড়ালেখার কিছু নেই! নিশ্চয়ই কারো কোথাও ভুল হচ্ছে…
তাকে বোঝানো হল; তুমি এখনো পুরোপুরি স্বাধীন না। তোমার কিছু দায়িত্ব আছে তো ব্যাটা… বিয়ে করেছো… সন্তান হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই সময়টা তোমার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর না। এটা সেটেল হবার সময়।

মানুষটি দশ বছর ধরে নিজেকে অনেক প্রতিষ্ঠিত করার পর গেট খুলে দেয়া হল। কি পেল জীবনে!!! কোলকাতার জোছনা ! ট্রেনের কেবিনের গল্প! মাছ ধরা সুনামগঞ্জের পুকুর! আহাআ… রাস্তায় কত মানুষ হাঁটছে! এরা কেউ সুখী না! এদের সবার একটি করে ভুল ঠিকানা আছে।

গলির রাস্তা থেকে বড় রাস্তায় যাবার পরেই তাকে আঁটকে দেয়া হল…
আমাকে আটকালে কেন! চল্লিশ বছর ধরে তোমাদের কথা শুনেছি। এখন অন্তত আমাকে মুক্তি দাও!
আপনে এখন আর শুধু আপনার না। আপনার সন্তান আছে। তারা বড় হয়েছে… তাদের ভবিষ্যৎ আছে।
একটি বাড়ি বানিয়ে যান… কিছু টাকা ব্যাংকে জমা থাকুক তাদের জন্য… তারা সুখ পাবে।

মানুষটি সারা জীবন নিজের মত করে একটু সময় কাটাতে চেয়েছিল! মরে যাবার দশ মিনিট আগেও সেই সুযোগ তিনি পান নি।
এই গল্পটি শুধু মাত্র একজন মানুষের না; এই গ্রহের সব মানুষের গল্প এটি…

Life Story,Note

Jun.25

Eid Mubarak 2017

আমাদের এইখানে কালকে ঈদ। দেশের বাইরে এটা আমার টানা ৩ নম্বর ঈদ। দেশে লাস্ট ঈদ করছিলাম ২০১৫ সালে। ঈদের মধ্যে আমি বাসায় নাই, এই ব্যাপারে আমার কাছের মানুষদের যেমন অনুভূতি হয়,

আম্মু – একটা শার্ট পছন্দ করতে তিন দিন মার্কেটে যাওয়া লাগে। দোকানদাররাও এখন শান্তিতে আছে!
আব্বা- সকালে টাকা দাও, দুপুরে টাকা দাও, বিকালে আবার দাও। এখন আর সেই ভেজাল নাই।
প্রেমিকা- আমার অবস্থা বিএনপির চেয়েও খারাপ। ঈদের পরও কিছুই হবে না (!)
আত্মীয়স্বজন- একজনের রান্না কম রানলেও চলে 😉
বন্ধুসমাজ- তোর আসা লাগবে না। খালি বিলটা পাঠায়ে দে 🐸
তবে,

এই এত এত মানুষদের একটা সত্যিকারের অনুভূতি আছে। সেইটা ভালোবাসা।
আমি নাই, তবুও আমাকে তাদের মনে পড়তেছে… আমাকে খুব মিস করতেছে… আমাকে ছাড়া ঈদ করতে খারাপ লাগতেছে… এই অনুভূতিটাই আমার কাছে ঈদ।
ঈদ মানে, আমি দেশে নাই। থাকলে হয়ত তেমন কিছুই হইত না। তবুও মনে হয় আমি থাকলে উড়ায়ে দিতাম, উৎসব কইরা ফাটায়ে দিতাম।
দেশের, দেশের বাইরের সবার ঈদ ভালো কাটুক।

ঈদ মুবারক বাংলাদেশ <3

Fun,Life Story,Living Abroad